Showing posts with label Book Review(পুস্তক পর্যালোচনা). Show all posts
Showing posts with label Book Review(পুস্তক পর্যালোচনা). Show all posts

Wednesday, 1 July 2015

পুস্তক পর্যালোচনা ~প্রবুদ্ধ দাস

প্রবুদ্ধ দাসের পুস্তক পর্যালোচনা ~

বই : ঘুরি বেড়াই ছবি আঁকি
অঙ্কন ~ কথন : দেবাশীষ দেব
প্রকাশক : ঋতি প্রকাশন 
দাম : ৩০০ টাকা


যখন এক ভ্রমণপিপাসু মানুষ তাঁর নিজ ভ্রমণের আখ্যান শব্দের বদলে তুলির টানে বোঝান সেই অভিনব প্রয়াসের ফলস্বরূপ এই বই। শিল্পী দেবাশীষ ছোটবেলা থেকেই ঘুরতে ভালোবাসেন । এবং খুব স্বাভাবিক ভাবেই কলমের বদলে তুলি হয়ে ওঠে তাঁর সঙ্গী। যে দৃশ্য তাঁর মন কাড়ে সেই দৃশ্যই রঙ আর তুলির টানে জীবন্ত হয়ে ওঠে আর আমার মতো ভ্রমণপিপাসু মানুষদের এক নস্টালজিয়াতে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। অঙ্কন শিল্প চিরকালই আমায় টানে যদিও নিজে আঁকতে তেমন পারিনা কিন্তু অনেক সময়ই আর্ট গ্যালারি হয়ে ওঠে আমার বন্ধু বইয়ের পাশে।
এই বই যারা বই ভালোবাসেন ,যারা ঘুরতে যাওয়ার স্মৃতি রোমন্থন করতে ভালোবাসেন এবং যারা আঁকেন তাঁরা নিশ্চয় সংগ্রহ করুন । ঠকবেন না ।


পুস্তক পর্যালোচনা ~ নিবেদিতা রায় চৌধুরী


নিবেদিতা রায় চৌধুরীর পুস্তক পর্যালোচনা ~

নামঃ উজান-যাত্রা
লেখিকাঃ বাণী বসু
প্রকাশকঃ আনন্দ প্রকাশনী
মূল্যঃ ১৫০/-

নামকরণ দ্বারাই এই বইটির মূল বিষয় ঘোষিত হয়েছে। লেখিকা তাঁর বহুল সমাদৃত লেখনীর মাধ্যমে এক শিকড়ে ফিরে যাওয়ার যাত্রার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। গুজরাটি কটন কিং নরেন্দ্রজীর একমাত্র কন্যা কস্তুরীর জন্য সেই যাত্রা তাঁর মাকে খোঁজার, আবার উচ্চশিক্ষিত আদিবাসী যুবক কাজলের জন্য সেই যাত্রা তার আদি দেশকে নতুন করে আবিষ্কার করার। আর এই যাত্রাপথে তারা সঙ্গী হিসাবে পেয়েছে অসামান্যা রূপসী আর্যকন্যা শিখরিণী এবং সাধারণ বাঙালী মেয়ে মিলিকে। এই যাত্রা শুধু স্থান থেকে স্থানান্তরে নয়, ধারণা থেকে জ্ঞান ও জানা থেকে আবিষ্কারেও বটে। আমরা এই সমগ্র যাত্রাপথের বর্ণনা বিভিন্ন ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে পেয়েছি। কিন্তু লেখিকার সব থেকে বড়ো কৃতিত্ব আমাদের সঙ্গে একটি বিশেষ প্রজন্মের পরিচয় করানো, যাঁদের সম্পর্কে বর্তমান ভার্চুয়াল প্রজন্ম সম্পূর্ণ অজ্ঞ। তাঁরা একদিন অনেক স্বপ্ন চোখে নিয়ে এমন একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন যা গান্ধীজীর আদর্শ রামরাজ্য হবে। কিন্তু স্বাধীনতা-উত্তর ভারতবর্ষের রাজনৈতিক জটিলতা এবং তথাকথিত নেতৃবৃন্দের স্বার্থসিদ্ধির কূট প্রবণতা দেখে তাঁরা অপরিসীম হতাশার সম্মুখীন হন। তাঁরা কেউ নিবেদিতার মতো একাকীত্বের জীবন বেছে নেন, কেউ রমার মত শিশুদের নিয়ে সময় কাটান, আবার কেউ কল্যাণীর মতো সত্যিকারের মানুষ গড়ার প্রচেষ্টার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। এই মানুষদের মধ্যে কিছুজনের নাম আমরা ইতিহাস বইতে অথবা সাধারণ জ্ঞানের বইতে "ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী" অধ্যায়ে পড়ি। কিন্তু তাঁদের স্বপ্ন এবং স্বাধীনোত্তর ভারতে তাঁদের disillusionment-এর কাহিনী লেখিকা সুচারুভাবে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন। তবে সমাপ্তিটা যেন একটু দ্রুতই এসেছে, যেখানে আরো বিস্তারের সুযোগ ছিল।
এক নিশ্বাসে পড়ে ফেলা যায় এই বইটি। পরতে পরতে জড়িয়ে আছে উত্তেজনা এবং গতি। আপনারা পড়ুন, পড়ে জানান আপনাদের মত। প্রত্যেকের শিকড়ে ফেরার যাত্রার বীজ লুকিয়ে আছে এই কাহিনীতে।

Friday, 26 June 2015

পুস্তক পর্যালোচনা ~ শেষের কবিতা (বিপ্লব বেসরা)

শেষের কবিতার (বিপ্লব বেসরা) পুস্তক পর্যালোচনা ~

উত্তরপুরুষ
লেখক: তমাল বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকাশক: আনন্দ প্রকাশনী
দাম: ১৫০

"তার বাবার দরকার নেই। মায়ের দরকার নেই। জাত-কূল-গোত্র-ধর্ম কিছুর দরকার নেই। কারণ সে জানে তার অন্য কোনও পরিচয়ের কোনও মানে নেই। তার একটাই পরিচয় সে বাংলা ভাষায় কথা বলে।"
গল্পের শেষের এই উক্তিটাই গোটা গল্পের সারমর্ম হিসেবে ধরে নিলে ভুল হয় না। এই উপন্যাস যেন ভেতো বাঙ্গালীকে একটু নাড়িয়ে দেওয়ার উপাখ্যান,তাকে তার জাত্যাভিমান আর সংস্কৃতি মনে করিয়ে দেওয়ার গল্প। বাঙ্গালীদের এক সময়ের সাংস্কৃতিক উপনিবেশ বলে পরিচিত বেনারস,যেখানে এখন বাংলা ঐতিহ্য অস্তিত্বের সংকটে টালমাটাল,সেখানে এক পিতা-পূত্রের সেই সংকটকে জয় করার লড়াই,শুধু তাকে টিকিয়ে রাখায় নয়,তাকে সগৌরবে তার পুরোনো সিংহাসনে ফিরিয়ে আনার লড়াই। আর তার সাথে রয়েছে বেনারসের এক প্রচন্ডভাবে জলজ্যান্ত এক বর্ণনা,যা শুধু নিছক বর্ণনার জন্য বর্ণনা নয়,তাতে রয়েছে সেখানকার ঐতিহ্য,সেখানকার সংস্কৃতির এক অপূর্ব চিত্রাঙ্কণ। ঘাটের পাশে শতানিক,বীশ্বেশ্বর আর স্বাতীর সংলাপ গুলো পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল যেন তাদের পাশে বয়ে চলা হাওয়া টা আমাকেও ছুঁয়ে চলে যাচ্ছে!! এবং খুব সুন্দর লেগেছে তমালদার উপস্থাপনাও। আলাদা করে কোনো চরিত্রায়নের উপর বেশি জোর দেওয়া হয়নি,সেভাবে বলতে গেলে বেনারস আর বাংলাভাষার প্রতি আবেগটাই হল এই গল্পের মূল চরিত্র। কিন্তু খুব যত্ন ভাবে প্রতিটি চরিত্রের প্রতিটি পরিস্থিতিতে তাদের মুখের expression,তাদের পোশাক-আশাক এর বর্ণনা করা হয়েছে যা এই গল্পের প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ন মনে হয়েছে। তমালদার এটা একটা নিজস্ব ধরণ গল্প বলার,চরিত্র গুলোর আপাদমস্তক বিবরণই অনেক সময় পাঠকের মনে সেই বিশেষ পরিস্থিতির গুরুত্বটা অনেকটাই পরিষ্কার করে তোলে। গল্পের সংলাপগুলো অবশ্য মাঝেমধ্যে একটু বেশিই রাশভারী মনে হয়েছে। দুটো মানুষের মধ্যে প্রথম প্রথম আলাপ হলে সকলেই একটু দ্বিধাগ্রস্থ থাকে যেটা সময়ের সাথে সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরী হওয়ার সাথে কেটে যায় এবং তাদের কথাবার্তাও তখন অনেকটা হাল্কা হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে লেখক সেই ভালো বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠার আভাষ দিলেও তাদের কথোপকথন টা কে সেই ভাবে হাল্কা দেখাননি,সেই প্রথম আলাপের মতই ভারীক্কি ধরণের formal মনে হল। এই খামতি টুকু বাদ দিলে "উত্তরপুরুষ অবশ্যই একটা "must read" বই। আমরা শুধু ভাষা আন্দোলনেরই কথা শুনেছি বা পড়েছি,কিন্তু ভাষা নিয়ে এ হেন অনুভূতির নিদর্শনও অভিজ্ঞতা আর উপলব্ধি করে রাখা ভালো। এই গল্পকে তাই আমি ১০ এর মধ্যে দিলাম ৮.৫........
পুনশ্চ: সত্যি প্রেম কত নিষ্ঠুর,নারীসঙ্গের লোভ কত বিচিত্র। আপাত দৃষ্টিতে একে অপরকে চরম শ্রদ্ধা করা বন্ধু অথচ কত সহজেই এক বন্ধু তার এক বন্ধুকে "অপদার্থ" "practically hopeless" বলে দিল কোনো রকমের কোনো অনুকম্পা ছাড়াই। অবশ্য গল্পের প্রেক্ষাপটের দিক থেকে এর বিশেষ তাৎপর্য মনে হল না এবং গল্পের এই অংশটা না থাকলেও বিশেষ কিছু অসুবিধে হত না। তার বদলে গল্পের এক জায়গায় হটাৎ করে এক প্রতিষ্ঠিত উদার চরিত্রের এই রকম একটা cynical(এবং কিছুটা arrogant ও) মন্তব্য একটু বেখাপ্পা লাগল......

পুস্তক পর্যালোচনা ~ অনীশ ভৌমিক

অনীশ ভৌমিকের ‎পুস্তক পর্যালোচনা:-      
পুস্তক:“মায়াকাচ”
লেখক:  তমাল বন্দ্যোপাধ্যায় 
প্রকাশক: আনন্দ প্রকাশনী
দাম:১৫০/- (ইং ২০১২,)

মফস্বলের অন্তর্মুখী ও ভাবুক তরুণ কৃষ্ণেন্দু আশৈশব তার কাকাদাদু তপনকান্তির সাহচর্য্যলাভ করায় তাঁর দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবিত। আদর্শবাদী ও একসময়ের নরমপন্থী সাম্যবাদী আন্দোলনের সক্রিয় সদস্য অববিবাহিত তপনকান্তি নিজের অনমনীয় ধ্যান-ধারণার কারণে অচিরেই হয়ে উঠেছিলেন “সম্পৃক্ত দ্রবণে ভাসমান অদ্রাব্য বস্তুর মতো” পারিবারিক-জীবনে নিতান্তই প্রান্তিক এক সদস্য। সামাজিক উপেক্ষার প্রতিক্রিয়াস্বরূপ কৃষ্ণেন্দুর মধ্যেই তাই তপনকান্তি নিজের অচরিতার্থ ইচ্ছেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সবার অলক্ষ্যে কিছুটা স্বেচ্ছাচারীর ঢঙে বপন করে দিয়েছিলেন এক তথাকথিত অচল ও বাস্তব-সাপেক্ষে অনুপযোগী জীবনবোধ। এদিকে স্বভাবগতভাবেই গতানুগতিকতার প্রবল বিরোধী হয়ে ওঠা কৃষ্ণেন্দু সাহিত্যের ছাত্র হবার পর থেকেই যেতে চায় সংখ্যাগরিষ্ঠের সহজ সাবলীল জীবনযাপনের বিপরীতে , পদে পদে নিজের ভুলভ্রান্তি-পরবর্তী আত্মসমীক্ষা ও আত্মকরুণার পৌনঃপুনিকতা সত্ত্বেও সে ‘শিল্পকলা’ নামক সময়োত্তীর্ণার সাধনার উচ্চাকাঙ্খায় অন্যমনস্ক । নিজের অপ্রচলিত চিন্তাভাবনার দৃঢ়তায় বরাবরের মতোই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক স্তরে ক্রমশই যখন ছাত্রছাত্রীমহলে কৃষ্ণেন্দুর ভাবমূর্তি হয়ে উঠছে নিতান্তই ‘এক সৌজন্যহীন, অহঙ্কারী ও আত্মকেন্দ্রিক যুবক’ হিসেবে, তখনই সে অযাচিতভাবে সান্নিধ্য পায় মিশুকে সহপাঠিনী নন্দিনীর। চেহারায় বিন্দুমাত্র দৃষ্টি-নান্দনিকতাহীন নন্দিনীর শুভাকাঙ্খা ও শর্তহীন মানসিক সমর্থন পেয়ে কৃষ্ণেন্দুর একাকিত্বে জর্জরিত, সঙ্গলিপ্সু অহম্‌ চরম তৃপ্তিতে স্ফীত হয়ে উঠলেও , প্রতিনিয়ত তাকে করতে হয় ইন্দ্রিয়-দাসত্ব থেকে মুক্তির মানবিক সাধনা। পারিবারিক অশান্তির অভিঘাত, আসন্ন পরীক্ষায় নিজের প্রস্তুতিহীনতার উপলব্ধি এবং নিজের অসহায়তাজনিত প্রবল হতাশায় ক্রমাগত বিপর্যস্ত কৃষ্ণেন্দুর শারীরবৃত্তীয় দর্শনক্রিয়ার যান্ত্রিকতার কাছে বশ্যতা স্বীকার না করে, দৃশ্যপটের প্রতিবিম্বকে মস্তিস্ক-সঞ্জাত হবার আগেই কোনো কল্পনা-প্রসূত ‘মায়াবী কাঁচ’ দিয়ে তাকে কাঙ্খিত রূপদান করার এক অলীক ও হঠকারী প্রচেষ্টার পরিণাম কি ধ্বংসাত্বক হতে পারে—তারই এক অসাধারণ ও মোহময় আখ্যান রয়েছে এই উপন্যাসে।

“ঘাতক”-নামক আরেকটি ‘আধুনিক পরিবর্তনশীল মনস্তত্ব’-বিষয়ক অনুপম উপন্যাস দিয়েই লেখকের সৃষ্টির সাথে আমার প্রথম পরিচয়। কিন্তু, ‘মায়াকাচ’ পড়ার পর এ কথা বলতে পারি যে অনবদ্য পরিবেশনশৈলী ও অত্যুত্কৃষ্ট শব্দবন্ধন সহকারে যেরকম সযত্নে এই সুখপাঠ্য কাহিনীটির অবতারণা করা হয়েছে – তাতে পাঠকের মানসপটে এক দীর্ঘস্থায়ী মুগ্ধতাক্ষেপণে লেখক স্বয়ং যেন এবার এক ‘ঘাতক’-এর ভূমিকায়!

Thursday, 25 June 2015

পুস্তক পর্যালোচনা ~ সুচরিতা দত্ত

সুচরিতা দত্তর পুস্তক পর্যালোচনা :-
পুস্তক: ২৪ নম্বর শ্যামানন্দ রোড
লেখক: সবুজ মুখোপাধ্যায় 
প্রকাশক: উনজন
দাম:১০০ 


   

 বড় বোকা বোকা ছিল সেই দিনগুলো.... সেই 'জলছবি, রংমশাল, স্কুলছুটির হজমিরা, রূপকথার পায়রাদের' দিনগুলো .. সেই ভাড়া বাড়ির পাড়ায় সব ছেলেমেয়েরা মিলে সারাদুপুর হুটোপুটি করে খেলে বেড়ানোর দিনগুলো, সেই সাদাকালো টিভির দিনগুলো, সেই বাড়িতে প্রথম টেলিফোন আসার দিনগুলো, কিন্তু বড় মিঠে ছিল যে সেসব.. মিষ্টি ভালোলাগার আলগা চাদর জড়ানো সে সব দিনের অস্তিত্ব এখন শুধুই আমাদের মনের মনিকোঠায়.. সত্যি কত তাড়াহুড়োয় কেটে গেল না দিনগুলো!!!!!!!!! মাঝে কটা বছর কেটেছে? ২০ টা... বড়জোর ২২ টা বছর.. এর মধ্যেই আমাদের চিরপরিচিত সাঁতসাঁত-এ সোঁদা গন্ধের দেয়াল, সরু অন্ধকার সিড়ি, দেয়ালের ফাঁক-ফোকরে যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা 'বট- অশথ' গাছ সব জি+3 = বহুতল + একক পরিবার এর ফর্মুলায় হারিয়ে গেল.. হয়ত বিশ্বায়ন দায়ী, হয়ত বা আমরা বড্ড তাড়াতাড়ি গ্লোবাল হয়ে গেলাম.. অবধারিতভাবেই যার প্রথম কোপ পড়ল সাবেকি বাড়িগুলোর উপর.. আজ কলকাতার সর্বত্রই 'গ্লোবাল' কলকাতার 'কসমোপলিটান' সংস্কৃতির ধ্বজাধারী বহুতল এর ভিড়.. আজ আমরা 'লন্ডন' হচ্ছি.. অদূর ভবিষ্যত এ হয়ত সিঙ্গাপুর বা টোকিও-মেক্সিকো হব.. এত হচ্ছি- হবর ভিড়ে কোথায় হারিয়ে গেল প্রাসাদ নগরীর সেই নোনা ধরা সাবেকি ঘরবাড়িগুলো ? কেমন ছিল 'প্লেন লিভিং' চিন্তাধারার অধিকারী সেই সব বাড়ির বাসিন্দা মধ্যবিত্ত সমাজ? মাত্র দু'দশক এর ব্যবধানেই যারা 'সেকাল' হয়ে গেল ? এর সদুরত্তর মিলবে সবুজ মুখোপাধ্যায় এর '২৪ নম্বর শ্যামানন্দ রোড' এ.. চিরপরিচিত চেনা শব্দের লেখনীতে বইটি যেন এক লিখিত নস্টালজিয়া-যা ফিরিয়ে নিয়ে যায় আমাদের ছোটবেলায় .... ধন্যবাদ রাজা পোদ্দার কে অসাধারণ এই বইটি প্রকাশ করার জন্য..  আর অনেক অনেক ধন্যবাদ লেখক সবুজ মুখোপাধ্যায় কে এরম এক নস্টালজিয়া আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য... বইটির দ্বিতীয় খন্ডের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রইলাম... যেসব বইপোকা এখনো পড়েননি বইটি, তাদের বলব দেরী করবেন না এই নস্টালজিয়ার সঙ্গী হতে .

 এই বইটি পাওয়া যাবে :
 সাউথ - স্টাডি -যাদবপুর (কফি  হাউস), কল্যাণ দা'স ষ্টল  (রাসবিহারী  মরে); সেন্ট্রাল  - দে  বুক  স্তরে , দে'স  পাবলিকেশন , বৈচিত্র .ধ্যান্বিন্দু (কলেজ স্ট্রিট)  পাতাবাহার  (কলেজ  স্ট্রিট), 

নর্থ  - এন্টারপ্রাইস  (ইনসাইড  সিন্থী  মোড় মার্কেট),

Wednesday, 24 June 2015

পুস্তক পর্যালোচনা~ শেষের কবিতা (বিপ্লব বেসরা)

শেষের কবিতার (বিপ্লব বেসরা) পুস্তক পর্যালোচনা:-


বৃষ্টি বিনিময়
লেখক: হর্ষ দত্ত
প্রকাশক: আনন্দ প্রকাশনী 
দাম: ১০০




আমার পড়া লেখকের প্রথম কোনো লেখা।এক কথায় বলতে গেলে বেশ ভালো লেগেছে। অনেক দিন পরে কোনো গল্পের সাথে একাত্ম মনে হল। গল্পের শুরু দুই জন কিশোরীর স্কুল ম্যাগাজীনে দু জন বিখ্যাত কবির দুটি কবিতা নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া থেকে ,যারপর শুরু হয় তাদের শাস্তি নিয়ে তোড়জোড়ের পালা। কিন্তু এর মধ্যেই জানা যায় ম্যাগাজীনের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষিকা একসময় তাদের লেখাকে তাদের নিজের বলে বিশ্বাস করতে না পেরে তাদের ভর্ৎসনা করার ঘটনা,যার থেকে রাগে অভিমানেই তাদের এই কাজ করা। এরপরে চলতে থাকে ন্যায়-অন্যায়ের যুযুধান,কে ঠিক কে বেঠিক,কে বেশি দোষী,কে কম দোষী,কেন তারা ওই কবিতা টুকে দিল বা কেন ওই শিক্ষিকা সেই কবিতা চিনতে পারলেন না,কে আসল কালপ্রিট এই প্রশ্নের চারিপাশেই আবর্তিত হতে থাকে গল্পের ঘটনাপ্রবাহ।
লেখক হর্ষ দত্তের লেখনির মধ্যে একটা সরল ভাব আছে,তাতে খুব ভারীক্কি শব্দের প্রয়োগ করে অকারন দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা যেমন নেই তেমনি সহজ সরল লেখার নাম করে বাজারী সস্তা চটকারী শব্দের(যার প্রয়োগ বেশ কিছু বর্তমান পপুলিস্ট সাহিত্যিকই করে থাকেন) ব্যবহারও কিছু নেই। গল্পের সংলাপ এর প্রকৃতি খুবই বাস্তবিক এবং তাতে কোনো অযাচিত দর্শনের অতিরঞ্জন নেই। গল্পের মূল উপজীব্য আজকের সমাজে ছোটদের প্রতি বড়দের ধ্যানধারণা নিয়ে। এই rat race যুগে অনবরত সন্তানের উপর প্রত্যাশার চাপ,সেটা সবসময় পূরণ না হতে পারার জন্য বাবা মায়েদের আরো হতাশা ও সেখান থেকে আরো চাপ সৃষ্টির প্রবণতা আজকের দিনে নতুন কিছু নয়। গল্পের প্রধান বিষয় রূপে আলোকপাত না করলেও লেখক খুবই নিপুণ ভাবে তা আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। শুধু একটা জিনিসই ভালো লাগল না,গল্পের একজন অন্যতম মূল চরিত্র সেই কিশোরীর একজন যাকে সারাটা গল্প জুড়ে বেশ একজন শক্ত পরিণত চরিত্র হিসেবে গড়ে তোলা হল তাকে গল্পের শেষে ওই ভাবে দূর্বল না করে দিলেও চলত হয়ত। গল্পের শেষের এই নাটকীয়তা বাদ দিলে গোটা গল্পটাই বেশ যত্নসহকারে লিখিত ও পরিবেশিত হয়েছে। এই উপন্যাসের জন্য আমি লেখককে দিলাম ১০ এর মধ্যে ৭.৫..



পুনশ্চ: নামকরণের সার্থকতা টি অবশ্য আমি বুঝে উঠতে পারিনি। কেউ বুঝে থাকলে সাহায্য করবেন।

পুস্তক পর্যালোচনা ~ অরুনাভ গঙ্গোপাধ্যায়

পুস্তক আলোচনা,
অরুণাভ গঙ্গোপাধ্যায়

বইঃ- “মানুষ অতুলপ্রসাদ”
লেখকঃ- পাহাড়ী সান্যাল
প্রকাশকঃ- সপ্তর্ষি প্রকাশন
দামঃ- ১৫০ টাকা

কয়েকদিনে পড়ে শেষ করলাম এই স্বল্পাকৃতি বইটি।
মিস্টার এ.পি.সেন থেকে ‘অতুল’দা’... অতুলপ্রসাদ সেনের সাথে পাহাড়ী সান্যালের ঘনিষ্ঠতা ছিল এই পর্যায়ের। ব্যক্তি অতুলপ্রসাদকে, তাঁর নিঃসঙ্গ গান-জীবনকে অন্তরঙ্গে দেখেছিলেন পাহাড়ী সান্যাল। সেই দেখারই এক আশ্চর্য সচিত্র আখ্যান এই বই।
১৯৭১ সালের ৯ই অক্টোবর ‘দেশ’ পত্রিকায় ছাপা হয় এই স্মৃতিচারণের প্রথম কিস্তি। কিন্তু তা সম্পূর্ণ হয়না। তার আগেই প্রয়াত হন পাহাড়ী সান্যাল। তবু পত্রিকায় প্রকাশের ঠিক চার দশক পরে, ২০১২ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় এই বই। বইয়ের কথামুখে সম্পাদক অর্চি মিত্র বলেছেন- “সংগীতস্রষ্টা রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যত আলোচনা বাংলা সংগীতসাহিত্যে তার পরবর্তী স্রষ্টাদের নিয়ে তার এক দশমাংশও বোধহয় নয়। সামগ্রিক ভাবে বাংলা ভাষায় সার্থক সংগীতসাহিত্য কততটুকুই বা আছে সে প্রশ্ন কেউ তুলতেই পারেন। কিন্তু ঘটনা হল, যেটুকু আছে অতুলপ্রসাদ-রজনীকান্ত-দ্বিজেন্দ্রলালেরা সেখানে বিশেষ আলোচিত হননি বললেই চলে”। তাই অসম্পূর্ণ হলেও পাহাড়ী সান্যাল রচিত এই বিস্মৃতপ্রায় আখ্যানকে পুনরায় পাঠক সমুখে নিয়ে আসা নিঃসন্দেহে প্রশংসার্হ। যদিও এই লেখা সংগীতস্রষ্টা অতুলপ্রসাদকে যতনা বিশ্লেষণ করে তার চেয়ে বেশী করে তুলে ধরে অতুলদা’র সাথে তাঁর প্রিয় পাহাড়ীর সম্পর্ককে। হয়ে ওঠে ত্রয়োদশবর্ষীয় বালক পাহাড়ী ও মধ্যবয়সী অতুলপ্রসাদের অসমবয়সী বন্ধুত্বের চিত্রাঞ্জলি। এ লেখা তাই বড়ই ব্যক্তিগত। এবং কখনও কখনও একই কথার পুনরাবৃত্তিতে দুষ্ট (যদিও এই পুনরাবৃত্তির জন্য পাহাড়ী বাবু তাঁর লেখার মধ্যেই বারে বারে ক্ষমা চেয়েছেন পাঠকদের কাছে)। তবুও এই লেখার মাধ্যমে অতুলপ্রসাদের মতন গুণী মানুষের ব্যক্তিজীবন ও কর্মজীবন, পাহাড়ী বাবুর নিজের শৈশব ও কৈশোরের দিনরাত ও তাঁর প্রথম প্রেমের আখ্যান, তৎকালীন লক্ষ্ণৌ-এর জীবন, তার সংস্কৃতি এবং সেই জীবন ও সংস্কৃতিতে অতুলপ্রসাদ ও তৎসহ বাঙালী কমিউনিটির প্রভাব সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে।
কিন্তু এতসব সুন্দরের মধ্যেও কাঁটা হয়ে বিঁধে আছে এর অপটু প্রকাশনা। বইয়ের বাঁধাই কিংবা প্রচ্ছদ অথবা কাগজের মান নিয়ে বলছিনা। বলছি অসংখ্য মুদ্রণ প্রমাদ নিয়ে। যতি চিহ্নের এলোমেলো অবস্থান নিয়ে। পাহাড়ী বাবুর মতন এমন বিদগ্ধ মানুষ যখন কিছু রচনা করেছেন তখন আমরা ধরে নিতেই পারি যে তিনি নিশ্চয়ই এমন বালখিল্যের মতন প্রমাদগুলি ঘটাননি। এমন ভাবাটাও অস্বাভাবিক নয় যে, যে সময় এই লেখা ছাপা হয় ‘দেশ’ পত্রিকায় তখন তার সম্পাদক সাগরময় ঘোষ, তাঁর মত পণ্ডিত মানুষের চোখও নিশ্চয়ই এড়ায়নি! তাহলে তো এই-ই দাঁড়াল- এ ভুল বর্তমানকালের প্রকাশক ও সম্পাদকের। এমন একটি ইতিহাসের অংশকে যখন কাগজের আশ্রয়ে তুলে ধরা হয় জনসমক্ষে তখন কি আরও সচেতন হওয়া উচিৎ নয়?! আরও বড় কথা আমি যে বইটি পড়েছি সেটি দ্বিতীয় মুদ্রণ, জানুয়ারি ২০১৩! অর্থাৎ পরপর দুটি সংস্করণ ধরে এই ভুলগুলি চোখের আড়ালে লুকোচুরি খেলে যাচ্ছে! হায়রে বঙ্গীয় প্রকাশক! তবু আশায় বাঁচে চাষা! আশা রাখি এর পরবর্তী সংস্করণগুলিতে পাহাড়ী ও তার অতুলদা’র জীবনালেখ্যের প্রমাদমুক্তি ঘটবে।
পুনশ্চঃ- আনন্দবাজার পত্রিকার “রবিবাসরীয়”-তে প্রকাশিত আশিষ পাঠক রচিত অতুলপ্রসাদের নিঃসঙ্গ ও বেদনাময় ব্যক্তিজীবন নিয়ে রচিত “একার গান” রচনাটিও পরিশিষ্ট হিসেবে সংযুক্ত হয়েছে এই বইয়ে।

পুস্তক পর্যালোচনা- প্রসেনজিৎ বন্দোপাধ্যায়



নাম : বিষকন্যা
ধরন : কাল্পনিক উপন্যাস
রচনা : দেবতোষ দাশ
প্রকাশনা : পত্র ভারতী
দাম : ১৫০ টাকা

আনন্দময় জীবন
~~~~~~~~~~~~~
জলের প্রতিভা।
.
প্রথমে উপন্যাসটির এই নামই রেখেছিলেন লেখক দেবতোষ দাশ। নামটি চয়ন করেছিলেন জীবনানন্দ দাশের একটি কবিতা (‘তোমাকে’) থেকে। পরে ‘বাণিজ্যিক স্বার্থে’ নামটির পরিবর্তন ঘটান প্রকাশনার কর্ণধার ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়। ফেসবুকের একটি গ্রুপকে দেওয়া ছোট সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন লেখক স্বয়ং।
.
নামের স্বার্থকতার চেয়েও বড় প্রশ্ন লেখকের এই প্রথম উপন্যাস কতটা স্বার্থক। পাঠের পরেই উপলব্ধি হবে যে পরম নিশ্চিন্তে নতুন উপন্যাসে হাত দিতে পারেন তিনি।
.
কবিতাময় এ উপন্যাস। বেশিরভাগটাই জীবনানন্দ। পাঠের সম্পূর্ণ আনন্দ তাই জীবনানন্দ অনুরাগীদেরই প্রাপ্য। তবে লেখকের প্রতিভায় বাকিরাও কিছুমাত্র বঞ্চিত হবেন না।
.
প্রথম পরিচ্ছেদে মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অরিন্দম কর্মসূত্রে দীঘা বেড়াতে এসে বাসেই আলাপ সেরে ফেলেছে শ্রুতকীর্তির সঙ্গে। দ্বিতীয়তে পরের দিন খেলাচ্ছলে সমুদ্রে নেমে ঘটল অরিন্দমের মৃত্যু। এ কি দুর্ঘটনা, না কি হত্যা, না দুইই? যদি হত্যা হয়, তবে কে করল?
.
উত্তরের জন্য অবশ্যই অপেক্ষা করার দরকার নেই শেষ পৃষ্ঠা অবধি। সঙ্গে-সঙ্গেই জবাব মিলেছে।
.
তবে বাকি আটত্রিশটি পরিচ্ছেদে কী রয়েছে? রয়েছে থামতে না চাওয়া পাতা ওলটানো আঙুল, রয়েছেন পরতে পরতে জীবনানন্দ আর কিছুটা শেকসপিয়ার, রয়েছে পাগল করা মধুজা সেন, রয়েছে রহস্যসন্ধানী ডিকে, হিংসা, প্রেম, কামনা, যৌনতা, আরও মৃত্যু, আরও কবিতাসহ জমাটি এক থ্রিলার।
.
হয়তো একটু বাড়িয়েই বলা হয়ে গেল। তাহলে কমগুলো এবার বলা যাক। কাহিনি অনেকটা চেনা পথে এগিয়ে জানা গন্তব্যেই শেষ হয়েছে। দুরন্ত কোনও চমক দিতে ব্যর্থই হয়েছেন লেখক। অপরাধীকে সামনে পেয়েও ঠকে যাবার, শিকার ফসকে যাবার যন্ত্রণা ও ধরা পড়ে যাবার উৎকণ্ঠা পাঠককে দিতে কোনোই চেষ্টা নেই। পৃষ্ঠাগুলো চোখ বড় বড় করে গোগ্রাসে গিলতে থাকলে ঠিক আছে, কিন্তু চোখ ছোট করে ফেললেই মুশকিল; তখনই ধরা পড়ে যাবে অপরাধের ধরন, কারণ, পারিপার্শ্বিকতা, যুক্তি, মোটিভ ও সম্ভাব্যতা বিষয়ে যাবতীয় অসঙ্গতি। কয়েক জায়গায় ‘পাঠকের নিশ্চয়ই স্মরণে আছে যে’ গোছের যে আদি বঙ্কিমী ধাঁচ অবলম্বন করে কাহিনির আধুনিকতায় হাস্যকর প্রলেপ দিয়ে ফেলেছেন। মধুজা সেনের শরীরে একটু বেশিই ঘুরেছেন এবং সম্পূর্ণ অকারণে মধুজা বাড়ি ঢুকে তার অন্তর্বাসদুটি কীভাবে খুলে ফেলছে অন্তত দু’বার তার বর্ণনা দিতে ভোলেননি। লেখক ইতিপূর্বে ছোটগল্পের মোড়কে লেখা প্রবন্ধগুলিতে তাঁর সুগভীর সাহিত্যজ্ঞানের যে পরিচয় দিয়েছেন তাতে তাঁর পত্রভারতীয় অনীশ-রঞ্জন গোত্রে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোনও প্রয়োজন আছে বলে তো মনে হয় না।
.
তবে দেবতোষ দাশের লেখনীকে ওসব মানদণ্ডে বিচার করা যায় না। যে নিপুণতায় তিনি কবিতার চাদরে একটি উপন্যাসকে সক্ষমভাবে জড়িয়েছেন, যেভাবে সংলাপ রচনা করেছেন, প্রাণপুরুষের সঙ্গে নিজের মনে মধুজার হাহাকার যেভাবে ব্যক্ত করেছেন, যেভাবে একটি সামান্য রহস্য-রোমাঞ্চ উপন্যাসকে কাব্যময়তার সুগভীরে নিয়ে গিয়ে যে অলীক আনন্দ দান করেছেন, কবিতাকে পাঠকের আরও কাছের ও নিজের করে তুলেছেন তার জন্য সাত ভুল মাফ হতেই পারে। উপরি পাওনা হিসেবে যেভাবে মহিলাদের বিচিত্র সব সাজপোশাকের উল্লেখ তিনি করে গিয়েছেন একের পর এক তাতে কোনও মহিলারও নিজের ফ্যাশনধারণা সম্পর্কে লজ্জিত হওয়া আশ্চর্যের নয়।
.
উপন্যাসটি হয়তো একবার, কিন্তু বহু শব্দ বার বার পড়ার মতো। তাই হয়তো একটি পেনসিল নিয়ে পড়তে বসাই বিচক্ষণতার পরিচায়ক।
.
পত্র ভারতীর চেনা ঝকঝকে পরিবেশনা প্রশংসাপ্রাপক। দেবযানী ঘোষালের প্রচ্ছদ ও অলংকরণও যথাযোগ্য।
.
প্রথম উপন্যাসের জন্য নবীন সাহিত্যিক দেবতোষ দাশকে আন্তরিক অভিনন্দন। সার্থক হোক আপনার কলমের প্রতিভা।
.
____________________

Tuesday, 23 June 2015

পুস্তক পর্যালোচনা ~অরিন্দম চক্রবর্তী




অরিন্দম চক্রবর্তীর পুস্তক পর্যালোচনা:-
নাম : অন্য থেকে ভিন্ন
লেখক : রঞ্জন বন্ধ্যোপাধ্যায়
প্রকাশকঃ সাহিত্যম
প্রিয়,
লিজা।আজ মনে পড়ছে সেই জ্যোৎস্না ভেজা রাতের কথা।যেদিন তোমার আমার শরীর জেগে উঠেছিল অন্তহীন ভালবাসায়।
কদিন ধরেই আমার মধ্যে পেয়ে বসেছিল মৃত্যুচেতনা।ভাবছিলাম কী হবে বেঁচে থেকে এই "অপ্রণয়"ভরা সংসারে।কাজকর্মের জটিল নাগপাশ আর অন্তহীন নির্লজ্জতা বারবার চেতনায় আনছিল 'বিপন্ন বিস্ময়'এর মরা সোঁতা।ঠিক তখনই তোমার টেক্সট মেসেজ।আমার চেতনার শিরায় ধরালো স্ফুলিঙ্গ।সেদিন টা ছিল পূর্ণিমা।দামিনীর মত ভাবছিলাম এমন দিনেই মরতে চাই হঠাত ই মোড় ঘুরল।জীবনের আরো একটু বাঁকে মধুলোভীর মত তোমার বাড়ির সামনে গাড়িটা থামালাম।
তুমি সেদিন পরেছিলে সাদা নাইটি।স্বচ্ছ ভেজা আবরণের মধ্যে দিয়ে তোমার দেহের উপত্যকা গুলো আমার শরীর মনে জেগে আনলে ঝড়।সাদা জ্যোৎস্নায় ধুয়ে যাচ্ছে চারপাশ।মনে পড়ছে এমন চন্দ্রালোকিত রাতের সৌন্দর্য দেখেই কবি রবীন্দ্রনাথ ভুলেছিলেন পুত্রশোকের নিদারুণ আর্তি।জীবনের টান এমন ই কী বিচিত্র!!!
সেদিন তুমি সরাসরি মেলে ধরলে নিজেকে।তোমার গোলাপি অন্তরবাসে যেন কবিতার মায়াঞ্জন।তোমার নেত্রছায়ার কালো নজরটানে আমি বিদ্ধ হলাম।ধীরে ধীরে পোশাক উন্মোচন যেন লাল পদ্মের পাপড়ি উন্মোচন।ঠিক এভাবেই কী পার্বতী পদ্মের কোরক কে উন্মুচিত করেছিল কুমারসম্ভবে??
তোমার নগ্ন শরীরের উথ্থানপতন আমাকে মনে পড়ালো নেরুদার প্রেমের আর্তি:::
"From your hips to your feet
I want to make a long journey.
I am smaller than an insect.
I go along these hills,
they are the colour of oats,
they have slender tracks
that only I know....

Here is a mountain.
I'll never get out of it.
Oh what giant moss!
And a crater,a rose
of dampened fire!"

সত্যিই তাই একটুও বাড়িয়ে বলছিনা।তোমার বিভাজিকার পরশ,ফুলের পাপড়ির মত বর্তুল স্তনবৃন্ত আর ভেজা গহ্বরের অমোঘ আকর্ষণ আমায় পাগল করে তুললে।গাঢ় চকোর মিশ্রণ তোমার সারা গায়ে ফেলে সেগুলো পরম মমতায় লেহন করতে লাগলাম।এক বন্য ফুলের সুগন্ধ পেতে লাগলাম আমি।আমার নগ্ন শরীর ক্রমশ তোমার সঙ্গে এক হতে লাগল।চাঁদের আলোর শিহরণ ঘাম চকো আর বীর্যের ককটেলে শোভিত হয়ে উঠল আমাদের মিলন লগ্ন তোমার স্টাডি।মনে হল আমি যেন স্বর্গের সেই অলকা পুরীতে রয়েছি।মৃত্যুর পাশ কেটে জীবনের এমন আততি আমায় ত্রাণ করতে লাগল।
সেই স্বর্গীয় অনুভূতির পরে যখন জীবন টাকে মনে হচ্ছে গলানো মোমের মত ঠিক তখনি তুমি আমায় এই বইটা এনে দিলে।এর প্রতিটা পাতায় তোমার সিডাকশনের মায়া আর ছেনালি ছড়ানো।
আজ আমি তোমার থেকে অনেক দূরে এই বইটা সবে শেষ করলাম।সত্যিই যৌনতার এমন বর্ণিল মহোৎসব তুমি আর রঞ্জন বাবু ই পারেন।এই বইয়ের এক একটি লেখা যেন তোমার পোশাক খোলার অদ্ভুত দুষ্টুমি।প্রতিটি শব্দ যেন তোমার নিরাবরণের ভাষা।এক একটা কাহিনিতে রয়েছে তোমার লাল বা গোলাপি অন্তর্বাসের সুবাস।তাই তো তোমার থেকে এত দূরে থেকেও এই বইয়ের গন্ধ যেন তোমার কথাই মনে পড়াচ্ছে।এই বইয়ের কুশীলবরা সবাই শরীরকে ভালবাসে সে পদ্মিণী থেকে রাজপুত কন্যা থেকে বিল ক্লিন্টন থেকে কেনেডি সবাই।লাবণ্য র শরীর ভাষা বুঝতে পারেনি অমিত।কিন্তু আমি বুঝেছি শরীরের ভালবাসার তন্ময়তাই পারে হিরণ্ময় জীবনের স্বাদ এনে দিতে।যেমন তুমি সেদিন মৃত্যুর পথ থেকে মোড় ঘুরিয়েছিলে জীবনের দিকে।আমি তো শেষ হতেই বসেছিলুম।কিন্তু তোমার আশ্লেষ আর এ বইয়ের প্রাণন আমায় বাঁচিয়ে রাখবে অনেকদিন।
হয়ত এরপরে অনেকের সঙ্গেই তোমার শরীরের সংযোগ ঘটবে কিন্তু তবুও ইয়েটসের কথা ধরে বলব:::"তোমার জীবনে অনেক পুরুষই আসবে।তারা তোমাকে ভালবাসবে।কিন্তু মনে রেখো,শুধুমাত্র একজনই ভালোবেসেছিল তোমার তীর্থযাত্রী আত্মাকে।"::::

Monday, 22 June 2015

পুস্তক পর্যালোচনা ~ রূদ্র সেন-

পুস্তক পর্যালোচনা ~ রূদ্র সেন-
The murder of Tutankhamen
Bob Brier, Ph.D.
Berkley Books, New York,
Price: ₹850/-
সুরম্য প্রাসাদে বিশ্রামরত এক কিশোর সম্রাট। স্তিমিত প্রদীপের নরম আলো যেন তাঁকে আরামের ঘুমের কোলে ধীরে ধীরে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ যেন একটা ছন্দপতন হল, ঘরে যেন কার পদচারণের শব্দ! উঠে দেখতেই মাথার পেছনে একটা ছুঁচালো অস্ত্রের আঘাত আর তীব্র রক্তপাত। ততক্ষনে অবশ্য আততায়ী পলায়ন করেছে কিন্তু সম্রাটের চিৎকারে ছুটে এসেছে তাঁর প্রিয়তমা রানী আর রক্ষীরা। তারপরে কয়েকদিনে সেরা চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমকে ব্যর্থ করে ধীরে ধীরে মৃত্যুর পরে ঢলে পড়া। এই ছিল সেই হতভাগ্য কিশোরের ভাগ্যে, এক মর্মান্তিক মৃত্যু।

নতুন করে বলতে নিশ্চই হবে না, সেই কিশোর কে আর কে ই বা হল তাঁর প্রিয়তমা মহিষী। তাঁরা হলেন ফারাও তুতানখামুন আর রানী অ্যানকাসানামুন। এভাবেই প্রায় ৩,৫০০ বছর পরে সেই প্রাচীন হত্যাকাণ্ডের (?) সমাধান করতে নেমে বব ব্রায়ার বিভিন্ন ঘটনা সাজিয়েছেন। যদিও মৃত্যুর পরের ঘটনা আরো চাঞ্চল্যকর। রানী অ্যানকাসানামুন বুঝতে পেরেছিলেন হত্যা কাদের চক্রান্তে সংগঠিত হয়েছে তাই তিনি অবিশ্বাস্যভাবে মিশরীয়দের প্রাচীন শত্রু হিটাইট সম্রাটকে গোপন চিঠি পাঠালেন তার কোন রাজকুমারকে পাঠাতে, যেন অ্যানকাসানামুন তাকে বিয়ে করে মিশরের নতুন ফ্যারাওয়ের রানী হতে পারেন। এই চিঠি বর্তমান তুরস্কের রাজঅন্দরে আলোড়ন তুলেছিল, যে মিশরকে তারা কিছুতেই দখল করতে পারেনি, সেখান থেকে এমন প্রস্তাব! 

যদিও অ্যানকাসানামুনের এই আবেদন ছিল কাতর, পেছনে ছিল না কোন খারাপ অভিসন্ধি। সে শুধু চেয়েছিল প্রধানমন্ত্রী আঈ য়ের স্ত্রী হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে। ততদিনে তুতানখামুনের কোন সন্তানের জন্ম হয়নি তাই মৃত ফ্যারাওয়ের রানীকে বিবাহ করলেই নতুন ফ্যারাও হওয়া যাবে। কিন্তু রাজরক্তের অধিকারী নয় এমন কোন পুরুষকে তিনি বিবাহ করতে চান নি, তাই শত্রুর কাছে পাঠিয়েছিলেন এমন অদ্ভুত প্রস্তাব। যদিও প্রস্তাবে সাড়া দিতে আসা রাজকুমারকে পথে হত্যা করা হয়েছিল। 

এমন অদ্ভুত কিছু প্রাচীন ঘটনা আর প্রধানমন্ত্রী আঈ ও সেনাপতি হরেমহেবের চক্রান্তের শিকার এই রাজযুগলের মৃত্যু এবং পরিকল্পিতভাবে তুতানখামুনকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টার কাহিনী নিয়ে এই বই। 

যদিও ১৯২২ এ তুতানখামুনকে খুঁজে পাওয়া যায় কিন্তু তাঁর রানী অ্যানকাসানামুন ছিল তখনও অধরা। প্রখ্যাত ঈজিপ্টোলজিস্ট বব ব্রায়ার জটিল সেই রাজনৈতিক সমীকরন যার জন্য খুন হতে হয়েছিল সেই এই কিশোর ফ্যারাওকে আর মৃত্যুপরবর্তী বিভিন্ন ঘটনাকে গোয়েন্দার মতো সমাধান করেছেন প্রায় ৩,৫০০ বছর পরে আর শেষে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন গোয়েন্দার কখনও পক্ষ নেওয়া উচিত নয় কিন্তু এই কিশোরকে তিনি ভালবেসে ফেলেছিলেন। তাই সেই ভালবাসা সব বাধাকে অতিক্রম করে মনে হয় সেই হতভাগ্য ফ্যারাওকে তাঁর হত্যার প্রকৃত হত্যকারীকে চেনাতে পেরেছেন প্রায় ৩০ শতাব্দী পরে।।

Saturday, 20 June 2015

পুস্তক পর্যালোচনা~ সোহম দাস:-

সোহম দাসের পুস্তক পর্যালোচনাঃ-
নাম : কিশোর রচনাসংগ্রহ
লেখক : মোহনলাল গঙ্গোপাধ্যায়
প্রকাশকঃ আনন্দ পাবলিশার্স
পরিসংখ্যানবিদ ও অর্থনীতিবিদ মোহনলাল গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দৌহিত্র । রবীন্দ্র-পরবর্তী যুগের লেখকদের মধ্যে অন্যতম মোহনলাল কিশোর-সাহিত্যে তাঁর মুন্সিয়ানা দেখিয়েছিলেন নিপুণভাবে । তাঁর কিশোর-কাহিনীগুলি শুধু কিশোর নয়, যুবা, প্রবীণদেরও যে মন ভালো করে দেবে সেটা এই বইটি একবার পড়লেই বোঝা যাবে । “বোর্ডিং স্কুল” ও “বাবুইয়ের অ্যাডভেঞ্চার” উপন্যাস দুটি এক কথায় অসাধারণ । দুটি উপন্যাসেরই নায়ক দুটি কিশোর । তাদের চোখ দিয়ে দেখানো তাদের খুদে জগতটাকে তিনি যেভাবে দেখিয়েছেন, তাতে লেখক হিসেবে তিনি কতখানি দক্ষ তার পরিচয় তিনি দিয়েছেন । “বোর্ডিং স্কুল”-এর নবাগত ছাত্রটি অন্যান্য ছাত্র-শিক্ষকদের কাছে যেমন পরিহাসের পাত্র হয়ে ওঠে তেমন অনেকেই তাকে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিয়ে কাছে টেনে নেয় । কিন্তু অদৃষ্টের নিষ্ঠুর পরিহাসে সেইসব আপনজনেরা তাকে ছেড়ে চলে যায় কোনও না কোনও ভাবে । ভালো-খারাপের দোলাচলে অতিবাহিত হতে থাকে তার স্কুলজীবন । পড়লে পাঠকের চোখে জল আসতে বাধ্য । “বাবুইয়ের অ্যাডভেঞ্চার” আবার অনেকটাই অন্যরকম । বলা যেতে পারে, অনেকটাই অনুপ্রেরণামূলক । কিশোর বাবুই “আজবতত্ত্ব” নামের এক কিশোর-পত্রিকায় দেশ বিদেশের নানা অ্যাডভেঞ্চার কাহিনী পড়ে উদ্বুদ্ধ হত এবং সে নিজেই তার মত করে অ্যাডভেঞ্চারে বেড়িয়ে পড়ত । সেগুলি পড়লে হয়তো পাগলামো মনে হবে কিন্তু এটাই তো কৈশোর । এই পাগলামো না থাকলে আর কৈশোরের মজা কোথায় । কিন্তু বাবুই পরবর্তীকালে সত্যি সত্যিই এক দুর্ধর্ষ অ্যাডভেঞ্চার করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রপক্ষের হয়ে । যুদ্ধবিমান চালিয়ে সে জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চলে বোমাবর্ষণ করত । তারপর অবশ্য ধরা পড়ে যায় । তারপর যুদ্ধ শেষ হলে সে একজন মুক্ত ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরের এক দ্বীপে ব্যবসা শুরু করে ও শেষে দেশে ফিরে আসে । তাও সে তার ছেলেবেলার সেই দিনগুলো ভুলতে পারে না । আজবতত্ত্ব কোলে নিয়ে ছাদের কোণে বসে পড়ে বিভোর হয়ে যাওয়ার দিনগুলো । এছাড়া এই সংকলনে ২৯টি নানা স্বাদের গল্প, ১৭টি মজার গল্প, দুটি নাটিকা, ৪টি বড়গল্প, ২টি ভূতের গল্প, ১৪টি রূপকথা, স্মৃতিকথা ইত্যাদি স্থান পেয়েছে । রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লেখা স্মৃতিকথা “কত্তাবাবা” আর লেখক-শিল্পী গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে “বড় দাদামশাইয়ের কথা” ঠাকুরবাড়ির শিল্প-সংস্কৃতির কথা যেমন বলে তেমন পারস্পরিক হৃদ্যতার কথাও সুন্দরভাবে সাজিয়েছেন তাছাড়া উঠে এসেছে নানা অজানা তথ্যও । যতই ভারী ভারী গম্ভীর বই পড়ি না কেন, মাঝে মাঝে স্বাদ বদলের জন্য এরকম বইয়ের খুব প্রয়োজন আছে, একেবারে মন ভালো করে দেওয়া বই । তাই কিনতেই পারেন আনন্দ পাবলিশার্সের এই অনবদ্য সংকলন । দাম মাত্র ১৭৫ টাকা ।