Wednesday, 24 June 2015

কবিতা : দ্বিচারিতা ~ অভীক রায়ের

অভীক রায়ের কবিতা


দ্বিচারিতা


একটা সাক্ষাত হলেই আশেপাশের মৌসুমী বায়ুর মেলা বসে যায় কারও না কারও বুকের ফাঁকা মাঠে....

আর অসাক্ষাত এ কষ্ট গুলো আরও আষ্টেপৃষ্টে ব্যাগ গুছিয়ে পাড়ি দেয় ত্রিভুবন বিচরনে...

সাময়িক কথাবার্তা ঝড়ের সামনে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দেয় বুকের মধ্যে জমে থাকা ঘন কালো

মেঘটাকে।

আর ক্ষনিকের নিস্তব্ধতায়

অভিমানগুলো গর্ভবতী নদীর মতো ফুলে ফেঁপে উঠে ভাসিয়ে দেয় বুকের

জমিন।

মৌসুমীবায়ু, কষ্টে কালো মেঘ আর অভিমান এরা কোন পাহাড়ের পাদদেশে

একসাথে ঘুমায় জানা আছে??

আমি মৌসুমিবায়ুকে গুটিগুটি পায়ে ধানক্ষেতের আড়ালে যেতে দেখেছি আর দেখেছি তার নলকূপে নাচতে নাচতে স্নান...

আমি কষ্টকে ভিখিরির পেটে গরীবের ঘরে রোজ

সকালে দুটো বাসি রুটি

আর রাতের বেলায় ফ্যানের বাটিতে দেখেছি....

দেখেছি অভিমান কিভাবে আয়েশ করে পা ছড়িয়ে বসে ছিঁড়েখুঁড়ে খায় প্রেমিকার বুকে জমে থাকা ভালোবাসাকে....

তবু বারবার ধূলোচেটে

মাথা নত করতে হয়...

বুকের ভিতর থেকে ছুরিটাকে টেনে বের করে ঘুরে দাঁড়াতে হয় কবিতা লেখার সামনে....

এই আশা নিয়ে বারবার

কলম চালাই আর ভাবি

হয়তো কোনোদিন কালো মেঘ থেকে সুখের বৃষ্টি নেমে ধুয়ে দিয়ে যাবে সব কষ্ট সব অভিমান....

আর মৌসুমি বায়ু কানে

কানে চিৎকার করে বলে যাবে:"আমি ভালোবাসা আর ঘৃনাতে আছি...আমি বেয়নেট আর বীনাতেও আছি"





পুস্তক পর্যালোচনা~ শেষের কবিতা (বিপ্লব বেসরা)

শেষের কবিতার (বিপ্লব বেসরা) পুস্তক পর্যালোচনা:-


বৃষ্টি বিনিময়
লেখক: হর্ষ দত্ত
প্রকাশক: আনন্দ প্রকাশনী 
দাম: ১০০




আমার পড়া লেখকের প্রথম কোনো লেখা।এক কথায় বলতে গেলে বেশ ভালো লেগেছে। অনেক দিন পরে কোনো গল্পের সাথে একাত্ম মনে হল। গল্পের শুরু দুই জন কিশোরীর স্কুল ম্যাগাজীনে দু জন বিখ্যাত কবির দুটি কবিতা নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া থেকে ,যারপর শুরু হয় তাদের শাস্তি নিয়ে তোড়জোড়ের পালা। কিন্তু এর মধ্যেই জানা যায় ম্যাগাজীনের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষিকা একসময় তাদের লেখাকে তাদের নিজের বলে বিশ্বাস করতে না পেরে তাদের ভর্ৎসনা করার ঘটনা,যার থেকে রাগে অভিমানেই তাদের এই কাজ করা। এরপরে চলতে থাকে ন্যায়-অন্যায়ের যুযুধান,কে ঠিক কে বেঠিক,কে বেশি দোষী,কে কম দোষী,কেন তারা ওই কবিতা টুকে দিল বা কেন ওই শিক্ষিকা সেই কবিতা চিনতে পারলেন না,কে আসল কালপ্রিট এই প্রশ্নের চারিপাশেই আবর্তিত হতে থাকে গল্পের ঘটনাপ্রবাহ।
লেখক হর্ষ দত্তের লেখনির মধ্যে একটা সরল ভাব আছে,তাতে খুব ভারীক্কি শব্দের প্রয়োগ করে অকারন দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা যেমন নেই তেমনি সহজ সরল লেখার নাম করে বাজারী সস্তা চটকারী শব্দের(যার প্রয়োগ বেশ কিছু বর্তমান পপুলিস্ট সাহিত্যিকই করে থাকেন) ব্যবহারও কিছু নেই। গল্পের সংলাপ এর প্রকৃতি খুবই বাস্তবিক এবং তাতে কোনো অযাচিত দর্শনের অতিরঞ্জন নেই। গল্পের মূল উপজীব্য আজকের সমাজে ছোটদের প্রতি বড়দের ধ্যানধারণা নিয়ে। এই rat race যুগে অনবরত সন্তানের উপর প্রত্যাশার চাপ,সেটা সবসময় পূরণ না হতে পারার জন্য বাবা মায়েদের আরো হতাশা ও সেখান থেকে আরো চাপ সৃষ্টির প্রবণতা আজকের দিনে নতুন কিছু নয়। গল্পের প্রধান বিষয় রূপে আলোকপাত না করলেও লেখক খুবই নিপুণ ভাবে তা আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। শুধু একটা জিনিসই ভালো লাগল না,গল্পের একজন অন্যতম মূল চরিত্র সেই কিশোরীর একজন যাকে সারাটা গল্প জুড়ে বেশ একজন শক্ত পরিণত চরিত্র হিসেবে গড়ে তোলা হল তাকে গল্পের শেষে ওই ভাবে দূর্বল না করে দিলেও চলত হয়ত। গল্পের শেষের এই নাটকীয়তা বাদ দিলে গোটা গল্পটাই বেশ যত্নসহকারে লিখিত ও পরিবেশিত হয়েছে। এই উপন্যাসের জন্য আমি লেখককে দিলাম ১০ এর মধ্যে ৭.৫..



পুনশ্চ: নামকরণের সার্থকতা টি অবশ্য আমি বুঝে উঠতে পারিনি। কেউ বুঝে থাকলে সাহায্য করবেন।

পুস্তক পর্যালোচনা ~ অরুনাভ গঙ্গোপাধ্যায়

পুস্তক আলোচনা,
অরুণাভ গঙ্গোপাধ্যায়

বইঃ- “মানুষ অতুলপ্রসাদ”
লেখকঃ- পাহাড়ী সান্যাল
প্রকাশকঃ- সপ্তর্ষি প্রকাশন
দামঃ- ১৫০ টাকা

কয়েকদিনে পড়ে শেষ করলাম এই স্বল্পাকৃতি বইটি।
মিস্টার এ.পি.সেন থেকে ‘অতুল’দা’... অতুলপ্রসাদ সেনের সাথে পাহাড়ী সান্যালের ঘনিষ্ঠতা ছিল এই পর্যায়ের। ব্যক্তি অতুলপ্রসাদকে, তাঁর নিঃসঙ্গ গান-জীবনকে অন্তরঙ্গে দেখেছিলেন পাহাড়ী সান্যাল। সেই দেখারই এক আশ্চর্য সচিত্র আখ্যান এই বই।
১৯৭১ সালের ৯ই অক্টোবর ‘দেশ’ পত্রিকায় ছাপা হয় এই স্মৃতিচারণের প্রথম কিস্তি। কিন্তু তা সম্পূর্ণ হয়না। তার আগেই প্রয়াত হন পাহাড়ী সান্যাল। তবু পত্রিকায় প্রকাশের ঠিক চার দশক পরে, ২০১২ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় এই বই। বইয়ের কথামুখে সম্পাদক অর্চি মিত্র বলেছেন- “সংগীতস্রষ্টা রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যত আলোচনা বাংলা সংগীতসাহিত্যে তার পরবর্তী স্রষ্টাদের নিয়ে তার এক দশমাংশও বোধহয় নয়। সামগ্রিক ভাবে বাংলা ভাষায় সার্থক সংগীতসাহিত্য কততটুকুই বা আছে সে প্রশ্ন কেউ তুলতেই পারেন। কিন্তু ঘটনা হল, যেটুকু আছে অতুলপ্রসাদ-রজনীকান্ত-দ্বিজেন্দ্রলালেরা সেখানে বিশেষ আলোচিত হননি বললেই চলে”। তাই অসম্পূর্ণ হলেও পাহাড়ী সান্যাল রচিত এই বিস্মৃতপ্রায় আখ্যানকে পুনরায় পাঠক সমুখে নিয়ে আসা নিঃসন্দেহে প্রশংসার্হ। যদিও এই লেখা সংগীতস্রষ্টা অতুলপ্রসাদকে যতনা বিশ্লেষণ করে তার চেয়ে বেশী করে তুলে ধরে অতুলদা’র সাথে তাঁর প্রিয় পাহাড়ীর সম্পর্ককে। হয়ে ওঠে ত্রয়োদশবর্ষীয় বালক পাহাড়ী ও মধ্যবয়সী অতুলপ্রসাদের অসমবয়সী বন্ধুত্বের চিত্রাঞ্জলি। এ লেখা তাই বড়ই ব্যক্তিগত। এবং কখনও কখনও একই কথার পুনরাবৃত্তিতে দুষ্ট (যদিও এই পুনরাবৃত্তির জন্য পাহাড়ী বাবু তাঁর লেখার মধ্যেই বারে বারে ক্ষমা চেয়েছেন পাঠকদের কাছে)। তবুও এই লেখার মাধ্যমে অতুলপ্রসাদের মতন গুণী মানুষের ব্যক্তিজীবন ও কর্মজীবন, পাহাড়ী বাবুর নিজের শৈশব ও কৈশোরের দিনরাত ও তাঁর প্রথম প্রেমের আখ্যান, তৎকালীন লক্ষ্ণৌ-এর জীবন, তার সংস্কৃতি এবং সেই জীবন ও সংস্কৃতিতে অতুলপ্রসাদ ও তৎসহ বাঙালী কমিউনিটির প্রভাব সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে।
কিন্তু এতসব সুন্দরের মধ্যেও কাঁটা হয়ে বিঁধে আছে এর অপটু প্রকাশনা। বইয়ের বাঁধাই কিংবা প্রচ্ছদ অথবা কাগজের মান নিয়ে বলছিনা। বলছি অসংখ্য মুদ্রণ প্রমাদ নিয়ে। যতি চিহ্নের এলোমেলো অবস্থান নিয়ে। পাহাড়ী বাবুর মতন এমন বিদগ্ধ মানুষ যখন কিছু রচনা করেছেন তখন আমরা ধরে নিতেই পারি যে তিনি নিশ্চয়ই এমন বালখিল্যের মতন প্রমাদগুলি ঘটাননি। এমন ভাবাটাও অস্বাভাবিক নয় যে, যে সময় এই লেখা ছাপা হয় ‘দেশ’ পত্রিকায় তখন তার সম্পাদক সাগরময় ঘোষ, তাঁর মত পণ্ডিত মানুষের চোখও নিশ্চয়ই এড়ায়নি! তাহলে তো এই-ই দাঁড়াল- এ ভুল বর্তমানকালের প্রকাশক ও সম্পাদকের। এমন একটি ইতিহাসের অংশকে যখন কাগজের আশ্রয়ে তুলে ধরা হয় জনসমক্ষে তখন কি আরও সচেতন হওয়া উচিৎ নয়?! আরও বড় কথা আমি যে বইটি পড়েছি সেটি দ্বিতীয় মুদ্রণ, জানুয়ারি ২০১৩! অর্থাৎ পরপর দুটি সংস্করণ ধরে এই ভুলগুলি চোখের আড়ালে লুকোচুরি খেলে যাচ্ছে! হায়রে বঙ্গীয় প্রকাশক! তবু আশায় বাঁচে চাষা! আশা রাখি এর পরবর্তী সংস্করণগুলিতে পাহাড়ী ও তার অতুলদা’র জীবনালেখ্যের প্রমাদমুক্তি ঘটবে।
পুনশ্চঃ- আনন্দবাজার পত্রিকার “রবিবাসরীয়”-তে প্রকাশিত আশিষ পাঠক রচিত অতুলপ্রসাদের নিঃসঙ্গ ও বেদনাময় ব্যক্তিজীবন নিয়ে রচিত “একার গান” রচনাটিও পরিশিষ্ট হিসেবে সংযুক্ত হয়েছে এই বইয়ে।

পুস্তক পর্যালোচনা- প্রসেনজিৎ বন্দোপাধ্যায়



নাম : বিষকন্যা
ধরন : কাল্পনিক উপন্যাস
রচনা : দেবতোষ দাশ
প্রকাশনা : পত্র ভারতী
দাম : ১৫০ টাকা

আনন্দময় জীবন
~~~~~~~~~~~~~
জলের প্রতিভা।
.
প্রথমে উপন্যাসটির এই নামই রেখেছিলেন লেখক দেবতোষ দাশ। নামটি চয়ন করেছিলেন জীবনানন্দ দাশের একটি কবিতা (‘তোমাকে’) থেকে। পরে ‘বাণিজ্যিক স্বার্থে’ নামটির পরিবর্তন ঘটান প্রকাশনার কর্ণধার ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়। ফেসবুকের একটি গ্রুপকে দেওয়া ছোট সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন লেখক স্বয়ং।
.
নামের স্বার্থকতার চেয়েও বড় প্রশ্ন লেখকের এই প্রথম উপন্যাস কতটা স্বার্থক। পাঠের পরেই উপলব্ধি হবে যে পরম নিশ্চিন্তে নতুন উপন্যাসে হাত দিতে পারেন তিনি।
.
কবিতাময় এ উপন্যাস। বেশিরভাগটাই জীবনানন্দ। পাঠের সম্পূর্ণ আনন্দ তাই জীবনানন্দ অনুরাগীদেরই প্রাপ্য। তবে লেখকের প্রতিভায় বাকিরাও কিছুমাত্র বঞ্চিত হবেন না।
.
প্রথম পরিচ্ছেদে মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অরিন্দম কর্মসূত্রে দীঘা বেড়াতে এসে বাসেই আলাপ সেরে ফেলেছে শ্রুতকীর্তির সঙ্গে। দ্বিতীয়তে পরের দিন খেলাচ্ছলে সমুদ্রে নেমে ঘটল অরিন্দমের মৃত্যু। এ কি দুর্ঘটনা, না কি হত্যা, না দুইই? যদি হত্যা হয়, তবে কে করল?
.
উত্তরের জন্য অবশ্যই অপেক্ষা করার দরকার নেই শেষ পৃষ্ঠা অবধি। সঙ্গে-সঙ্গেই জবাব মিলেছে।
.
তবে বাকি আটত্রিশটি পরিচ্ছেদে কী রয়েছে? রয়েছে থামতে না চাওয়া পাতা ওলটানো আঙুল, রয়েছেন পরতে পরতে জীবনানন্দ আর কিছুটা শেকসপিয়ার, রয়েছে পাগল করা মধুজা সেন, রয়েছে রহস্যসন্ধানী ডিকে, হিংসা, প্রেম, কামনা, যৌনতা, আরও মৃত্যু, আরও কবিতাসহ জমাটি এক থ্রিলার।
.
হয়তো একটু বাড়িয়েই বলা হয়ে গেল। তাহলে কমগুলো এবার বলা যাক। কাহিনি অনেকটা চেনা পথে এগিয়ে জানা গন্তব্যেই শেষ হয়েছে। দুরন্ত কোনও চমক দিতে ব্যর্থই হয়েছেন লেখক। অপরাধীকে সামনে পেয়েও ঠকে যাবার, শিকার ফসকে যাবার যন্ত্রণা ও ধরা পড়ে যাবার উৎকণ্ঠা পাঠককে দিতে কোনোই চেষ্টা নেই। পৃষ্ঠাগুলো চোখ বড় বড় করে গোগ্রাসে গিলতে থাকলে ঠিক আছে, কিন্তু চোখ ছোট করে ফেললেই মুশকিল; তখনই ধরা পড়ে যাবে অপরাধের ধরন, কারণ, পারিপার্শ্বিকতা, যুক্তি, মোটিভ ও সম্ভাব্যতা বিষয়ে যাবতীয় অসঙ্গতি। কয়েক জায়গায় ‘পাঠকের নিশ্চয়ই স্মরণে আছে যে’ গোছের যে আদি বঙ্কিমী ধাঁচ অবলম্বন করে কাহিনির আধুনিকতায় হাস্যকর প্রলেপ দিয়ে ফেলেছেন। মধুজা সেনের শরীরে একটু বেশিই ঘুরেছেন এবং সম্পূর্ণ অকারণে মধুজা বাড়ি ঢুকে তার অন্তর্বাসদুটি কীভাবে খুলে ফেলছে অন্তত দু’বার তার বর্ণনা দিতে ভোলেননি। লেখক ইতিপূর্বে ছোটগল্পের মোড়কে লেখা প্রবন্ধগুলিতে তাঁর সুগভীর সাহিত্যজ্ঞানের যে পরিচয় দিয়েছেন তাতে তাঁর পত্রভারতীয় অনীশ-রঞ্জন গোত্রে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোনও প্রয়োজন আছে বলে তো মনে হয় না।
.
তবে দেবতোষ দাশের লেখনীকে ওসব মানদণ্ডে বিচার করা যায় না। যে নিপুণতায় তিনি কবিতার চাদরে একটি উপন্যাসকে সক্ষমভাবে জড়িয়েছেন, যেভাবে সংলাপ রচনা করেছেন, প্রাণপুরুষের সঙ্গে নিজের মনে মধুজার হাহাকার যেভাবে ব্যক্ত করেছেন, যেভাবে একটি সামান্য রহস্য-রোমাঞ্চ উপন্যাসকে কাব্যময়তার সুগভীরে নিয়ে গিয়ে যে অলীক আনন্দ দান করেছেন, কবিতাকে পাঠকের আরও কাছের ও নিজের করে তুলেছেন তার জন্য সাত ভুল মাফ হতেই পারে। উপরি পাওনা হিসেবে যেভাবে মহিলাদের বিচিত্র সব সাজপোশাকের উল্লেখ তিনি করে গিয়েছেন একের পর এক তাতে কোনও মহিলারও নিজের ফ্যাশনধারণা সম্পর্কে লজ্জিত হওয়া আশ্চর্যের নয়।
.
উপন্যাসটি হয়তো একবার, কিন্তু বহু শব্দ বার বার পড়ার মতো। তাই হয়তো একটি পেনসিল নিয়ে পড়তে বসাই বিচক্ষণতার পরিচায়ক।
.
পত্র ভারতীর চেনা ঝকঝকে পরিবেশনা প্রশংসাপ্রাপক। দেবযানী ঘোষালের প্রচ্ছদ ও অলংকরণও যথাযোগ্য।
.
প্রথম উপন্যাসের জন্য নবীন সাহিত্যিক দেবতোষ দাশকে আন্তরিক অভিনন্দন। সার্থক হোক আপনার কলমের প্রতিভা।
.
____________________

প্রবন্ধ : লওণ্ডা নাচ ~অভীক মুখার্জী



লওণ্ডা নাচ নিয়ে কিছু কথাঃ
কাল রাতে ‘সাবধান ইনডিয়া ইউ . পি. ফাইটস ব্যাক’ –এর একটি পর্বে দেখছিলাম ‘লওণ্ডা নাচ’ নামক পেশাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনার ব্যাপারে।
ছোট গল্প। ভানু নামের একটি ছেলে সদ্য সাবালক হবার পরে বাড়ির অভাবের তাড়নায় ‘নাচনিয়া’ (পুরুষ হয়েও মেয়েলি পোশাকের অন্তরালে থেকে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে অশ্রাব্য গানের তালে তালে নাচে যে) পেশা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়, প্রসঙ্গত উল্লেখ্য তার পিতাও এই পেশায় লিপ্ত ছিলেন। পিতাকে জোর করে রাজি করিয়ে এবং মাকে লুকিয়ে ছেলেটি খুব অল্প দিনের মধ্যেই লওণ্ডা নাচিয়ে হিসাবে বেশ নাম করে (ভানু হয়ে যায় ভানুপ্রিয়া) এবং ভালো টাকা রোজগার করতে থাকে। কিন্তু জীবন সোজা পথে এগোয় না। ডাক পড়ে এক স্থানীয় মুরুব্বির মেয়ের বিয়েতে নাচার জন্য। সেখানে নাচার সময় ছেলেপক্ষের একজনের নেকনজরে (!!!) পড়ে যায় ভানুপ্রিয়া, তাকে ৫০,০০০ টাকার নগদ ইনাম দেওয়া হয়। কিন্তু ইনাম প্রদানকারী কমবয়সী ছেলেটি বুঝে উঠতে পারেনা যে ভানুপ্রিয়া মেয়ে নয় ছেলে (এতই ভালো ছিল ভানুপ্রিয়ার অভিনয় আর নাচের দক্ষতা)। মেয়ে পক্ষের কিছু মানুষ ইনাম প্রদানকারী ছেলেটির সাথে কদর্য রসিকতার তালে ভানুপ্রিয়া’কে তুলে আনে রাতে ছেলেটির ঘরে (তাতে সাহায্য করে ভানুপ্রিয়ার নাচনিয়া দলের এক পুরানো নাচনিয়া, যে ভানুপ্রিয়ার ক্রমোন্নতি দেখে জ্বলে যাচ্ছিল)। ইনাম প্রদানকারী ভানুপ্রিয়া’কে বলাৎকার করতে গেলে প্রকাশিত হয়ে পড়ে ভানুপ্রিয়া আসলে ভানু। ভানু সেই মুহূর্তে পালিয়ে গেলেও ছেলে পক্ষের ইজ্জৎ নিয়ে মেয়ে পক্ষের মানুষ ‘খেলা’ করায় তার মাসুল দিতে হয় ভানুর প্রাণ দিয়ে। পরে এই গল্পে (সত্য ঘটনা) পুলিশের সাহায্য নিয়ে অপরাধী ধরা পড়ে।
ওপরের যে কাহিনী বিবৃত করলাম এরকম রোজকার জীবনে ঘটে থাকে ভারতীয় গো – বলয় এর Eastern U.P. , Bihar ইত্যাদি অঞ্চলে। লওণ্ডা নাচ এখানে খুব সাধারণ ব্যাপার। প্রায় মাস ছয়েক আগে থেকে এই নিয়ে পড়া, তথ্য খোঁজার কাজ শুরু করেছিলাম, কিছু পেয়েওছি। কি অদ্ভুত জীবন এদের সেটা না পড়লে, না দেখলে বোঝা যাবে না। মনে হয় আমরা শুয়ে আছি, না ঘুমানোর কথা বলিনি, বললাম শুয়ে আছি। যে অর্থে শুয়ে থাকা তা হল নিজেদের গা বাঁচানো, যেমন মানুষ বাঁচায় বোমার আঘাত, গুলির আঘাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে, আমরা জেনেও চুপ করে থাকি।
সামান্য কিছু অর্থের চাহিদায় পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, অন্ধ্র, ওড়িশা থেকে কম বয়সী ছেলেরা উপরোক্ত অঞ্চলে ভিড় জমায় ‘নাচনিয়া’ হবার তাগিদে। এর মধ্যে প্রভেদ থাকে; কেউ শুধুই টাকার জন্য মেয়ের পোশাকে নাচে, কেউ মেয়েলি স্বভাবের তাই এই পেশা বেছে নেশার সাথে মিশিয়ে নেয়, অনেকে আবার নিজের লিঙ্গ কর্তন (লিকম ছিবড়ানো, লিকম= লিঙ্গ) করিয়ে হিজড়াদের খোলিতে নাম লিখিয়ে এই পেশায় আসে।
ভারতীয় গো – বলয় এর Eastern U.P. , Bihar ইত্যাদি অঞ্চলে বিয়ের বরযাত্রী বা ‘বারাতি’ এলে তাঁদের নেচে ‘স্বোয়াগত’ করতে / ‘বারাতি’র দলের সামনে নেচে নেচে আসার জন্য লওণ্ডা নাচিয়েদের দরকার হয়। ইতিহাস বলছে প্রায় ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে এই প্রথার প্রচলন। মেয়েদের পর্দানশীন হবার কারণে ছেলেরাই এই পেশায় নাম লেখায়, তাছাড়াও মূলস্রোত ব্যতীত হিজড়া সমাজের মানুষ এতে অংশ নেন।
নাচ চলতে থাকে, রাত বাড়তে থাকে। মদের ফোয়ারার ছটকানিতে বারাতির দল ভুলে যায় নাচনিয়াদের লিঙ্গ (অবশ্য বিকৃত কাম লিঙ্গ ভেদ দিয়ে বিচার করা মূর্খের কাজ, যে বিকৃত কামের অধিকারী সেই ব্যক্তি সমাজের গায়ে একটা ঘা’য়ের মতই, নারী জাতির অবমাননাকারী প্রত্যেক মানুষ এই বিকৃত কামের অধিকারী ) , তাদের নিয়ে টানাটানি বাড়তে থাকে, নাচের রঙ্গে নেশা ধরাতে নাচনিয়ার দল যে পিঠের বেশি ভাগ খোলা ‘চোলি’ পড়ে থাকে সেই উম্মুক্ত পিঠে পড়তে থাকে পুরুষের হাত, ‘বন্ডেজ’প্রিয় বারাতির ব্লেড ছিন্ন ভিন্ন করে নাচনিয়া লওণ্ডার দেহ, রক্তে – স্বেদে দুর্দমনীয় পৌরুষ এর পরে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে যায় লওণ্ডা নাচের নায়িকাদের (নায়ক!!!)। এক নয়, দুই নয় বেশি ভাগ ক্ষেত্রে ১২-১৪ জনের হাতে ধর্ষিত হতে হয়েছে বলেই গড়পড়তা হিসাব মেলে।
তবে শুধু বারাতির বরাত নিয়ে নাচা নয়, কিছু ক্ষেত্রে মেলায়, অনুষ্ঠানে নাচার জন্যেও নাচনিয়াদের ব্যবস্থা করা হয়। নাচনিয়া খোলির মালিক এসব ব্যাপার দেখে থাকেন। আবার অনেক সময় রহিস জমিনদার দের বাড়িতে পাকাপাকি নাচনিয়াকে ক্রীতদাসের (ক্রীতদাসী!!!) মত রাখা হয়। ক্রীতদাস বলা বোধ হয় ভুল হবে, বলা যেতে পারে যৌনদাস হিসাবে। সেখানে কিছুটা খেতে পাবার জন্য বার বার তাকে ধর্ষিত হতে হয় জমিনদার, তার পরিজন, চাকর এদের হাতে; এমনকি প্রাতক্রিয়া সারতে মাঠে গেলেও শিকার হতে হয় এদের। কি অদ্ভুত লাগছে না! তার থেকেও বেশি গা – শিউরে ওঠা ভাব আসছে না! কিন্তু কিছু করার নেই লওণ্ডা নাচের নায়ক (!!!)দের। শেষ অব্দি বেশি ভাগ ক্ষেত্রে কোন দুরারোগ্য যৌন ব্যাধি দ্বারা আক্রান্ত হয়ে স্থান হয় রাস্তার ধারে, জীবনের শেষের ওখানেই শুরু হয়।
ঋণস্বীকারঃ 
১. গুরুচণ্ডালী ওয়েবম্যাগ
২. ‘চন্দ্রগ্রহণ’ পত্রিকার ১৪২১ শারদ সংখ্যা
৩. ইন্টারনেট থেকে নানা সংকলিত তথ্য
৪. নিজস্ব গদাসম দৃষ্টিভঙ্গী

Tuesday, 23 June 2015

পুস্তক পর্যালোচনা ~অরিন্দম চক্রবর্তী




অরিন্দম চক্রবর্তীর পুস্তক পর্যালোচনা:-
নাম : অন্য থেকে ভিন্ন
লেখক : রঞ্জন বন্ধ্যোপাধ্যায়
প্রকাশকঃ সাহিত্যম
প্রিয়,
লিজা।আজ মনে পড়ছে সেই জ্যোৎস্না ভেজা রাতের কথা।যেদিন তোমার আমার শরীর জেগে উঠেছিল অন্তহীন ভালবাসায়।
কদিন ধরেই আমার মধ্যে পেয়ে বসেছিল মৃত্যুচেতনা।ভাবছিলাম কী হবে বেঁচে থেকে এই "অপ্রণয়"ভরা সংসারে।কাজকর্মের জটিল নাগপাশ আর অন্তহীন নির্লজ্জতা বারবার চেতনায় আনছিল 'বিপন্ন বিস্ময়'এর মরা সোঁতা।ঠিক তখনই তোমার টেক্সট মেসেজ।আমার চেতনার শিরায় ধরালো স্ফুলিঙ্গ।সেদিন টা ছিল পূর্ণিমা।দামিনীর মত ভাবছিলাম এমন দিনেই মরতে চাই হঠাত ই মোড় ঘুরল।জীবনের আরো একটু বাঁকে মধুলোভীর মত তোমার বাড়ির সামনে গাড়িটা থামালাম।
তুমি সেদিন পরেছিলে সাদা নাইটি।স্বচ্ছ ভেজা আবরণের মধ্যে দিয়ে তোমার দেহের উপত্যকা গুলো আমার শরীর মনে জেগে আনলে ঝড়।সাদা জ্যোৎস্নায় ধুয়ে যাচ্ছে চারপাশ।মনে পড়ছে এমন চন্দ্রালোকিত রাতের সৌন্দর্য দেখেই কবি রবীন্দ্রনাথ ভুলেছিলেন পুত্রশোকের নিদারুণ আর্তি।জীবনের টান এমন ই কী বিচিত্র!!!
সেদিন তুমি সরাসরি মেলে ধরলে নিজেকে।তোমার গোলাপি অন্তরবাসে যেন কবিতার মায়াঞ্জন।তোমার নেত্রছায়ার কালো নজরটানে আমি বিদ্ধ হলাম।ধীরে ধীরে পোশাক উন্মোচন যেন লাল পদ্মের পাপড়ি উন্মোচন।ঠিক এভাবেই কী পার্বতী পদ্মের কোরক কে উন্মুচিত করেছিল কুমারসম্ভবে??
তোমার নগ্ন শরীরের উথ্থানপতন আমাকে মনে পড়ালো নেরুদার প্রেমের আর্তি:::
"From your hips to your feet
I want to make a long journey.
I am smaller than an insect.
I go along these hills,
they are the colour of oats,
they have slender tracks
that only I know....

Here is a mountain.
I'll never get out of it.
Oh what giant moss!
And a crater,a rose
of dampened fire!"

সত্যিই তাই একটুও বাড়িয়ে বলছিনা।তোমার বিভাজিকার পরশ,ফুলের পাপড়ির মত বর্তুল স্তনবৃন্ত আর ভেজা গহ্বরের অমোঘ আকর্ষণ আমায় পাগল করে তুললে।গাঢ় চকোর মিশ্রণ তোমার সারা গায়ে ফেলে সেগুলো পরম মমতায় লেহন করতে লাগলাম।এক বন্য ফুলের সুগন্ধ পেতে লাগলাম আমি।আমার নগ্ন শরীর ক্রমশ তোমার সঙ্গে এক হতে লাগল।চাঁদের আলোর শিহরণ ঘাম চকো আর বীর্যের ককটেলে শোভিত হয়ে উঠল আমাদের মিলন লগ্ন তোমার স্টাডি।মনে হল আমি যেন স্বর্গের সেই অলকা পুরীতে রয়েছি।মৃত্যুর পাশ কেটে জীবনের এমন আততি আমায় ত্রাণ করতে লাগল।
সেই স্বর্গীয় অনুভূতির পরে যখন জীবন টাকে মনে হচ্ছে গলানো মোমের মত ঠিক তখনি তুমি আমায় এই বইটা এনে দিলে।এর প্রতিটা পাতায় তোমার সিডাকশনের মায়া আর ছেনালি ছড়ানো।
আজ আমি তোমার থেকে অনেক দূরে এই বইটা সবে শেষ করলাম।সত্যিই যৌনতার এমন বর্ণিল মহোৎসব তুমি আর রঞ্জন বাবু ই পারেন।এই বইয়ের এক একটি লেখা যেন তোমার পোশাক খোলার অদ্ভুত দুষ্টুমি।প্রতিটি শব্দ যেন তোমার নিরাবরণের ভাষা।এক একটা কাহিনিতে রয়েছে তোমার লাল বা গোলাপি অন্তর্বাসের সুবাস।তাই তো তোমার থেকে এত দূরে থেকেও এই বইয়ের গন্ধ যেন তোমার কথাই মনে পড়াচ্ছে।এই বইয়ের কুশীলবরা সবাই শরীরকে ভালবাসে সে পদ্মিণী থেকে রাজপুত কন্যা থেকে বিল ক্লিন্টন থেকে কেনেডি সবাই।লাবণ্য র শরীর ভাষা বুঝতে পারেনি অমিত।কিন্তু আমি বুঝেছি শরীরের ভালবাসার তন্ময়তাই পারে হিরণ্ময় জীবনের স্বাদ এনে দিতে।যেমন তুমি সেদিন মৃত্যুর পথ থেকে মোড় ঘুরিয়েছিলে জীবনের দিকে।আমি তো শেষ হতেই বসেছিলুম।কিন্তু তোমার আশ্লেষ আর এ বইয়ের প্রাণন আমায় বাঁচিয়ে রাখবে অনেকদিন।
হয়ত এরপরে অনেকের সঙ্গেই তোমার শরীরের সংযোগ ঘটবে কিন্তু তবুও ইয়েটসের কথা ধরে বলব:::"তোমার জীবনে অনেক পুরুষই আসবে।তারা তোমাকে ভালবাসবে।কিন্তু মনে রেখো,শুধুমাত্র একজনই ভালোবেসেছিল তোমার তীর্থযাত্রী আত্মাকে।"::::

Monday, 22 June 2015

পুস্তক পর্যালোচনা ~ রূদ্র সেন-

পুস্তক পর্যালোচনা ~ রূদ্র সেন-
The murder of Tutankhamen
Bob Brier, Ph.D.
Berkley Books, New York,
Price: ₹850/-
সুরম্য প্রাসাদে বিশ্রামরত এক কিশোর সম্রাট। স্তিমিত প্রদীপের নরম আলো যেন তাঁকে আরামের ঘুমের কোলে ধীরে ধীরে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ যেন একটা ছন্দপতন হল, ঘরে যেন কার পদচারণের শব্দ! উঠে দেখতেই মাথার পেছনে একটা ছুঁচালো অস্ত্রের আঘাত আর তীব্র রক্তপাত। ততক্ষনে অবশ্য আততায়ী পলায়ন করেছে কিন্তু সম্রাটের চিৎকারে ছুটে এসেছে তাঁর প্রিয়তমা রানী আর রক্ষীরা। তারপরে কয়েকদিনে সেরা চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমকে ব্যর্থ করে ধীরে ধীরে মৃত্যুর পরে ঢলে পড়া। এই ছিল সেই হতভাগ্য কিশোরের ভাগ্যে, এক মর্মান্তিক মৃত্যু।

নতুন করে বলতে নিশ্চই হবে না, সেই কিশোর কে আর কে ই বা হল তাঁর প্রিয়তমা মহিষী। তাঁরা হলেন ফারাও তুতানখামুন আর রানী অ্যানকাসানামুন। এভাবেই প্রায় ৩,৫০০ বছর পরে সেই প্রাচীন হত্যাকাণ্ডের (?) সমাধান করতে নেমে বব ব্রায়ার বিভিন্ন ঘটনা সাজিয়েছেন। যদিও মৃত্যুর পরের ঘটনা আরো চাঞ্চল্যকর। রানী অ্যানকাসানামুন বুঝতে পেরেছিলেন হত্যা কাদের চক্রান্তে সংগঠিত হয়েছে তাই তিনি অবিশ্বাস্যভাবে মিশরীয়দের প্রাচীন শত্রু হিটাইট সম্রাটকে গোপন চিঠি পাঠালেন তার কোন রাজকুমারকে পাঠাতে, যেন অ্যানকাসানামুন তাকে বিয়ে করে মিশরের নতুন ফ্যারাওয়ের রানী হতে পারেন। এই চিঠি বর্তমান তুরস্কের রাজঅন্দরে আলোড়ন তুলেছিল, যে মিশরকে তারা কিছুতেই দখল করতে পারেনি, সেখান থেকে এমন প্রস্তাব! 

যদিও অ্যানকাসানামুনের এই আবেদন ছিল কাতর, পেছনে ছিল না কোন খারাপ অভিসন্ধি। সে শুধু চেয়েছিল প্রধানমন্ত্রী আঈ য়ের স্ত্রী হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে। ততদিনে তুতানখামুনের কোন সন্তানের জন্ম হয়নি তাই মৃত ফ্যারাওয়ের রানীকে বিবাহ করলেই নতুন ফ্যারাও হওয়া যাবে। কিন্তু রাজরক্তের অধিকারী নয় এমন কোন পুরুষকে তিনি বিবাহ করতে চান নি, তাই শত্রুর কাছে পাঠিয়েছিলেন এমন অদ্ভুত প্রস্তাব। যদিও প্রস্তাবে সাড়া দিতে আসা রাজকুমারকে পথে হত্যা করা হয়েছিল। 

এমন অদ্ভুত কিছু প্রাচীন ঘটনা আর প্রধানমন্ত্রী আঈ ও সেনাপতি হরেমহেবের চক্রান্তের শিকার এই রাজযুগলের মৃত্যু এবং পরিকল্পিতভাবে তুতানখামুনকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টার কাহিনী নিয়ে এই বই। 

যদিও ১৯২২ এ তুতানখামুনকে খুঁজে পাওয়া যায় কিন্তু তাঁর রানী অ্যানকাসানামুন ছিল তখনও অধরা। প্রখ্যাত ঈজিপ্টোলজিস্ট বব ব্রায়ার জটিল সেই রাজনৈতিক সমীকরন যার জন্য খুন হতে হয়েছিল সেই এই কিশোর ফ্যারাওকে আর মৃত্যুপরবর্তী বিভিন্ন ঘটনাকে গোয়েন্দার মতো সমাধান করেছেন প্রায় ৩,৫০০ বছর পরে আর শেষে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন গোয়েন্দার কখনও পক্ষ নেওয়া উচিত নয় কিন্তু এই কিশোরকে তিনি ভালবেসে ফেলেছিলেন। তাই সেই ভালবাসা সব বাধাকে অতিক্রম করে মনে হয় সেই হতভাগ্য ফ্যারাওকে তাঁর হত্যার প্রকৃত হত্যকারীকে চেনাতে পেরেছেন প্রায় ৩০ শতাব্দী পরে।।